ভাল দাম থাকায় বরেন্দ্র অঞ্চলে আউশ আবাদ লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও লক্ষমাত্রার অধিক বোরোর ফসল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপশি এবছর রেকর্ড পরিমাণ রাজশাহী অঞ্চলে আউশের আবাদ লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

বোরোর ফলন অধিক ও দাম বেশী পাওয়াতে কৃষকরা এবার আউশের চাষে ঝুঁকে পড়েছে। যারা গতবার ধান চাষ করেনি বা কম আবাদ করেছিলো এবার সেইসব কৃষকরা ধানের চাষ বাড়িয়েছে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানাযায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার রাজশাহীতে আউশের আবাদ লক্ষমাত্র ছাড়িয়েছে। গত বছর আউশের আবাদ হয়েছিলো ৪৯ হাজার ৭৪৮ হেক্টর এবার তা বেড়ে ৫০ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে । যার লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছিলো ৫০ হাজার ৯৬০ হেক্টর। এবার জেলায় ১২শত ২২ হেক্টর আবাদ বেশী হয়েছে।

আউশ আবাদের সিংহ ভাগই রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও বাগমারা উপজেলায় বেশী পরিমাণ আবাদ হয়েছে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, এবার উপজেলায় আউশ ধানের আবাদ লক্ষমাত্রা ছাড়িয়েছে। ধানের দাম ও ফলন পাওয়াতে তারা ধান করতে আগ্রহী হয়েছেন বলে জানান।

উপজেলার রামনগরের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, গত বারের চেয়ে এবার বেশী ধান লাগিয়েছে। ধানের দাম ভালো পাওয়া ও ফলন বেশী হওয়াতে আউশের আবাদ বাড়ীয়েছি। টানা কিছুদিন বৃষ্টির করনে ধানের রোগ বালাই বেশী হলেও কৃষি অফিসের সহযোগিতায় তা কাটিয়ে উঠেছেন বলে জানান।

পৌর এলাকার হেলিপ্যাড লালবাগের কৃষক মজিবুর রহমান জানান, গতবার ২ বিঘা ধান আবাদ করে ছিলাম এবার ধানের দাম বেশী হওয়াতে তিন বিঘা ধান আবাদ করেছি।

সিএ্যান্ডবি গড়ের মাঠ এলাকার কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, গতবার ধান লাগাইনি। এবার ধানের দাম পাওয়াতে আনন্দে ধান লাগিয়েছে। তিনি সরকারের নিকট দাবি জানান, সরকার খাদ্য গুদামে ধান কিনলেও কৃষকরা দিতে পারে না তাই ধানের দামটা ঠিক রাখলে ও সারের দাম কমালে কৃষকরা উপকৃত হবে বলে জানান।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো:শফিকুল ইসলাম বলেন, এবার আউশের আবাদ লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ধানের দাম পাওয়াতে এবার আবাদ বেড়েছে। ধানের জন্য আবহাওয়া ভালো আছে। আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছে। আশা করা যায় কৃষক আনন্দের সহিত আউশ চাষাবাদ করছে এবং সরকারে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের পাশাপশি তারা ভূমিকা রাখবে। সুত্রঃ পদ্মাটাইমস

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে