'নাইট' উপাধি পেলেন ১০০ বছরের ক্যাপ্টেন টম

ডেস্ক নিউজঃ শতবর্ষী ক্যাপ্টেন টম ৩০ এপ্রিল তাঁর জন্মদিনের আগে আড়াই কিমি হেঁটে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সোয়া তিন কোটির পাউন্ডের বেশি অর্থ তুলেছিলেন। এ অবদানের জন্য তিনি ‘নাইট’ উপাধি পেলেন রানির কাছ থেকে। ৯৪ বছর বয়সী রানি মহামারির লকডাউনের পর এই প্রথম বাইরে এলেন।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এনএইচএস দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য ৩ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের বেশি অর্থ সংগ্রহকারী ১০০ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে সম্মান জানাতে উইন্ডসর ক্যাসলে একটি অনন্য অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি কর্মকর্তা টম মুরের অন্যতম পরিচয় হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ছিলেন তিনি। মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই এই বয়সে হেঁটে হেঁটে তহবিল সংগ্রহের কথা ভাবেন তিনি। যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ডশায়ারের গ্রাম মার্সটন মোরেটেইনে থাকেন টম।

৬ এপ্রিল তাঁর বাসার পেছনের বাগানে হাঁটার পরিকল্পনা নেন তিনি। শুনলে মনে হতে পারে এ আর এমন কী! তবে ৮২ ফুটের অতটুকু জায়গায় প্রতিদিন হাঁটা মোটেও সহজ নয় ৯৯ বছরের এক বৃদ্ধের জন্য। কারণ, হাঁটার জন্য এক ধরনের ওয়াকারের সাহায্য নিতে হয় তাঁকে। তবু টলেননি টম। সেই হাঁটা থেকেই উঠেছে প্রায় ৪ কোটি পাউন্ড।

নাইটহুড পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় স্যার টম বলেন, একেবারে অসামান্য দিন। আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। এটি রানির কাছ থেকে পাওয়া দারুণ সম্মানজনক।

স্যার টম বলেন, কাছে গিয়ে রানির সঙ্গে কথা বলাটাও সৌভাগ্যের বিষয়।

রানির পক্ষ থেকেও প্রশংসা করে বলা হয়েছে, ‘আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। প্রচুর তহবিল আপনি সংগ্রহ করে দিয়েছেন।’

মে মাসে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নাইটহুডের জন্য প্রস্তাব করেন।

বাকিংহাম প্যালেস সূত্র জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো কঠোর সামাজিক বাধ্যবাধকতা মেনে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

রানি ৫ মিনিট ধরে স্যার টম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে স্যার টমের মেয়ে হাননা ইনগ্রাম, জামাই কলিন ইনগ্রাম ও নাতি-নাতনিরা উপস্থিত ছিলেন।

ছোট মেয়ে হাননাহর উৎসাহে তহবিল গঠনের বিষয়টি মাথায় আসে টমের। একই সঙ্গে এনএইচএসের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধও কাজ করে। কারণ, স্কিন ক্যানসারসহ নানা ধরনের অসুখে চমৎকার চিকিৎসা পান তিনি। আর সেটা এনএইচএসের কাছ থেকে। হাননাহ তাঁর নামে ইনস্টাগ্রামে ফান্ড রাইজিং পেজ খুলে জাস্ট গিভিং অ্যাকাউন্ট করেন। তাঁদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল এক হাজার পাউন্ড তোলার। তবে এক সপ্তাহে অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায় ৪০ লাখ পাউন্ড। টম মুর যা আশা করেছিলেন, তার চেয়ে বহুগুণ অর্থ তুলতে পেরেছেন। প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর বিপুলসংখ্যক মানুষের এই ভালোবাসায় বাবা ও মেয়ে আবেগে উদ্বেলিত।

তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে এই তহবিলে ১০ লাখ পাউন্ড জমা পড়ার পর টম নিজেই বলেছিলেন, ‘এ তো অবিশ্বাস্য।’

গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, ১০০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে টম মুরকে সম্মানসূচক কর্নেল পদে অধিষ্ঠিত করা হয়। এবার তিনি সরাসরি রানির কাছ থেকেই নাইটহুড পেলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে